বিএনপির প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহীরা, বদলে যাচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৯১টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিলেও অন্তত ৭৯টি আসনে দলটির নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। দলীয় সূত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির নির্বাচনী কৌশল ও সম্ভাব্য ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় বিএনপির ভোটব্যাংকে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এতে অনেক আসনে বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জয়ের হিসাব জটিল হয়ে পড়ছে।
ভোট বিভাজনের ঝুঁকি
বিশেষ করে যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান বা দীর্ঘদিনের স্থানীয় নেতা, সেখানে দলীয় প্রার্থীরা চাপে রয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক দলীয় প্রতীকের চেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
একাধিক আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে, ফলে তৃতীয় পক্ষ তুলনামূলক কম ভোট পেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যাচ্ছে।
অঞ্চলভেদে প্রভাব
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এখানে বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং পুরোনো এবং একাধিক প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। এতে দলীয় প্রার্থীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।
উত্তরাঞ্চলে বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংক থাকলেও বিদ্রোহীরা জয়ের ব্যবধান কমিয়ে দিচ্ছেন। দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি শক্ত হওয়ায় বিদ্রোহীরা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্রোহের মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও কয়েকটি আসনে তারা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিদ্রোহ শুধু একটি নির্বাচনের ফলাফলেই প্রভাব ফেলবে না, বরং বিএনপির দলীয় শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচনের পর দলের ভেতরে নেতৃত্ব ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
সার্বিক মূল্যায়ন সামগ্রিকভাবে ৭৯টি আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট বিভাজনের কারণে বেশ কিছু আসনে বিএনপির সম্ভাব্য জয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এসব বিদ্রোহের প্রভাব কতটা গভীর হবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বহিষ্কারের পরও মাঠে বিদ্রোহীরা, বিভক্ত হচ্ছে কি বিএনপির ভোট
মাসুদ আলম সুমন 

